শিরোনাম

জীবন্ত ঘুড়ি || দীপ্তি মৈত্র - কুঁড়েঘর


জীবন্ত ঘুড়ি
দীপ্তি মৈত্র

আকাশ পথে উড়ে চলছে দুটি ঘুড়ি। যেতে যেতেই বন্ধুত্ব হলো তাদের। নানান গল্প কথায় সুখ দুঃখের ভাগীদার হলো একে অন্যের। পরিচয় হলো একের সঙ্গে অপরের। নীচ থেকে একদল মানুষ তাদের নিয়ে খেলছে প্যাঁচের লড়াই। দুই ঘুড়ির দুই মালিকের সুতো ছাড়ার খেলায় তারা উঠে চলেছে। দেখতে দেখতে দুলছে আর ভাবছে তারা যেন কতদিনের বন্ধু। ঘুড়ি দুটি বুঝেছিল মানুষের হাতের ঐ সুতোই তাদের ভাগ্য। ওই মাঞ্জা দেওয়া সুতোর খেলায় সবাই তাদের বাঁধতে চায়, কেউ মুক্ত করে না। তাদের স্বজন বলতে কেউ নেই-একান্তে গোপন কান্না বোঝার মতো নেই হৃদয়। তাদের পায়ে দাসত্বের শৃঙ্খলের বেড়ি পরা। বন্ধুত্বকে অটুট রাখতে ঘুড়ি দুটি নিজের সুতোয় জট পাকিয়ে নিয়ে প্যাঁচের সময় সুতো ছিঁড়ে ফেলে আকাশে উড়ে গিয়েছি। ভেবেছিল আকাশ তাদের সহায় হবে। আকাশে কোনো লড়াই নেই,বাধা নেই। নিজেদের মতো ভাসতে থাকবে। একজন আর একজনকে হারাবে না। ঐ একদল মানুষের ভোকাট্টা চিৎকারে পরিণত হবে না গাছের ডালে বা ইলেকট্রিক তারে পড়ে থাকা আবর্জনায়।

এই দুই ঘুড়ির মতোই জীবন পথে চলতে গিয়ে আলাপ হয়েছিল হকার রোহন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির খেটে খাওয়া মেয়ে মনিকার। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল তারা। কিন্তু ঘুড়ির সুতোর মতোই তাদের জীবনের সুতোও ছিলো বিধাতার হাতে। তাঁর সুতোর টানেই তাদের ভাগ্যের উত্থান-পতন। সংসারের দারিদ্র‍্যতা তাদের সাথে খেলেছিল প্যাঁচের লড়াই। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় শাশুড়ি মায়ের কাছে হয়েছিলো চক্ষুশূল। সেই সংসারে আবর্জনার মতো পড়ে থাকতে চায়নি মনিকা। তাই রোহন ও মনিকা তাদের আদরের কন্যা রোহিণীকে নিয়ে দুই ঘুড়ির সুতোর জটের মতোই একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হয়েছিলো ঘর ছাড়া। হকার রোহন আর সবজিব্যবসায়ী মনিকার চোখে এখন অ-নে-এক স্বপ্ন রোহিণীকে নিয়ে। যে স্বপ্ন দেখায় কোনো বাধা নেই, নেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।

No comments