শিরোনাম

১৬ ডিসেম্বর || ম­হিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

১৬ ডিসেম্বর
ম­হিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ


নামাপাড়া গ্রাম।
গ্রামের পাশেই ছোট্ট বিল।নাম কুলা।বর্ষা মৌসুমে পানিতে কানায় কানায় ভরে টইটুম্বুর হয়ে যায়।দক্ষিণা বাতাসে বিলের পানি ঢেউ খেলে।ঢেউয়ের তালে তালে হাটুজলে কলমি লতা আর শ্যাওলা দোল খায়।
বিলে প্রচুর মাছ আছে।
জেলেরা দিনভর বিলে মাছ ধরে। তাতে সাদা বক আর পানকৌড়ির আনা গোনা তো আছই।

বিলের পূর্ব কোণে ছোট্ট বাড়ি জাহিদদের।
দু'টো কুঁড়ে ঘর।জাহিদ ক্লাস এইটে পড়ে।বোন ফাতিমা ক্লাস ফোরে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জাহিদদের 
ইস্ কুলে ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ক্রীড়াপ্রতিযোগিতার প্রস্তুতি চলছে।
জাহিদের মনে সে কি আনন্দ! সহপাঠী তৌহিদের কাছ থেকে ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের আনন্দের কথা শুনেছে।
ইস্ কুলের পুরো মাঠ সেদিন ছেলে- মেয়েদের কলকাকলীতে মুখরিত থাকবে।

তৌহিদ,
মুক্তিযুদ্ধ কি?
জাহিদ জানতে চায়।
তৌহিদ বলে,দেশকে শত্রু মুক্ত করতে যারা কাঁধে বন্দুক তোলে নিয়েছিল,জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছেন,দেশের জন্য তারাই মুক্তিযোদ্ধা।

জাহিদ জানিস,স্যার বলেছে,সন্ধ্যায় 
ইস্ কুল মাঠে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক মঞ্চস্থ হবে।নাটক দেখলেই অনেক কিছু জানতে পারবি।
জাহিদ ইস্ কুল থেকে বাড়ি ফিরে বই- খাতা রাখতেই রান্না ঘর থেকে মায়ের কান্নার শব্দে বেদনার ছোঁয়া লাগে।দ্রুত কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,
মা তুমি কাঁদছো কেন?
মা নিরবে চোখের পানি ফেলেন। তিনি জাহিদের কাছে কিছু লুকাতে চান।কিন্তু পারে না।জাহিদকে কাছে টেনে চোখের পানি ছেড়ে বলেন,আমার মতো কোন নারীকে যেন আল্লাহ বিধবা না বানান। স্বামী হারা যন্ত্রণায় আমার হৃদয় জ্বলে পড়ে ছারখার।
মা ! অমন কথা বলছো কেন?
তাহলে আমার বাবা
••••?
যায়েদা বেগম আরো জোরে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন।

মা,মা তুমি শুধুই কেঁদো না।
বলো, বাবার কি হয়েছে?
মা বলেন,তোর বাবা ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
দেশজুড়ে যখন স্বাধীনতার ঘন্টা বেজে ওঠলো,তোর বাবা তোকে কোলে রেখেই দেশকে মুক্ত করার জন্য চলে যায় যুদ্ধে। দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়।

জাহিদ মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে 
বলে, মা! কেঁদো না।বাবা তো যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য,দেশের মানুষের মুক্তির জন্য।এর প্রতিদান বাবা আখিরাতে পাবে।
যায়েদা বেগম বলে ওঠে, বাবা জাহিদ, এদেশের জন্য যাদের ভালোবাসা রয়েছে তারা জানে কত মমতাময়ী আমাদের এই প্রিয় দেশ।
যারা এদেশের বিজয়ের জন্য রক্ত বিলিয়ে দিয়েছে,জীবন দিয়েছে,তারা জানতো এদেশের ভালোবাসা তাদেরকে কেমন আপ্লুত করেছে।এদেশকে তারা হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিল।সে ভালোবাসার জন্য তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে এ দেশের বিজয় এনেছে।

তাহলে মা,বিজয় দিবসকে আমরা কিভাবে দেখবো?এর উত্তর এক কথায় দেয়া সম্ভব নয় বাবা। বলেই আঁচলে মুছে যায়েদা। বিজয়ের বিষয়টা কোন একটা দিকের সাথে সম্পৃক্ত নয়।নয় বলেই বিজয় নিয়ে আমাদের ভাবনাও অনেক বেশি।বিজয় দিবসে আমাদের ভাবনা
হও য়া উচিত গোটা দেশকে নিয়ে।

হ্যাঁ,দেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনও পুরো স্বাধীনতার সফলতা আসেনি।নিজেকে বাবার মতো করে গড়তে হবে।দেশের জন্য জীবন দেয়ার শপথ নিতে হবে।তাহলে তোর বাবা কবরে শান্তি পাবে। প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর এলেই তোর বাবার কথা মনে পড়ে, দেশের কথা মনে পড়ে, কান্না চেপে রাখতে পারিনে।

No comments